১৯ জুন ২০১২ - ১৯:৩০

পাকিস্তানি শিয়া আলেম ও করাচী শহরের ‘নাযিম আবাদ’ অঞ্চলের ‘নূর ঈমান’ মসজিদের অস্থায়ী পেশ ইমাম উগ্র সিপাহে সাহাবা সন্ত্রাসীদের হামলায় শহীদ হয়েছেন।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : পাকিস্তানি শিয়া আলেম ও করাচীর নাযিম আবাদ অঞ্চলের ‘নূর ঈমান’ মসজিদের অস্থায়ী পেশ ইমাম ‘হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা গোলাম মুহাম্মাদ আমিনী’ নিষিদ্ধ সিপাহে সাহাবা সন্ত্রাসীদের হামলায় শাহাদাত বরণ করেছেন।

মাওলানা গোলাম মুহাম্মাদ আমিন (৫২) গতপরশু মাগরিব ও এশার নামায শেষে বাড়ী ফেরার উদ্দেশ্যে নূর ঈমান মসজিদ হতে বের হন। অতঃপর মসজিদের গেটে’ই তাকে উদ্দেশ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি চালালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। দু’টি গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হলে তিনি শহীদ হন।

এরপূর্বে এ মসজিদের পেশ ইমাম আল্লামা মীর্জা ইউসুফ হুসাইনের পুত্রও একই স্থানে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে শহীদ হন। বলা হয় যে, করাচীর নাযিম আবাদ অঞ্চলটি অন্যান্য অঞ্চল অপেক্ষা শিয়াদের জন্য অনিরাপদ এবং প্রায়ই উগ্র ওয়াহাবী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়, তবে এ পর্যন্ত কোন সন্ত্রাসীকেই আইন শৃংখলারক্ষী বাহিনী গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি।

উক্ত হামলার পর সরকারী সৈন্যরা স্বভাবতই ঘটনাস্থলকে ঘিরে রাখে ও শহীদের লাশ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে এবং সরকারী কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার নিন্দায় বিবৃতি প্রদান করেছে।

বলাবাহুল্য, সিপাহে সাহাবা সন্ত্রাসী দলটি পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দল। যারা নিষিদ্ধ হওয়ার পর ‘আহলে সুন্নাতে পাকিস্তান’ নামে তত্পরতা চালাতো এবং বর্তমানেও চালাচ্ছে। সম্প্রতি ‘আহলে সুন্নাতে পাকিস্তান’ও নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যেখানে কোন দল বা সন্ত্রাসী দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরও তারা তত্পরতা চালায়। সবচেয়ে অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে যে, এ সকল সন্ত্রাসী দলের সদস্যরা তো গ্রেপ্তার হয়ই না বরং তাদের যে সকল সদস্য বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছে তাদেরকে বিভিন্ন বাহানায় মুক্তি দেওয়া হয়।

এদিকে মাজলিসে ওয়াহদাতে মুসলিমীনে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা, এ সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মাওলানা গোলাম মুহাম্মাদ আমিনী’র শাহাদতের ঘটনাকে সমগ্র পাকিস্তানি শিয়াদের জন্য মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

পাকিস্তানে সিন্ধু প্রদেশে মাজলিসে ওয়াহদাতে মুসলিমীনে পাকিস্তানের শীর্ষনেতা আল্লামা মোখতার ইমামি শিয়া আলেমের শাহাদাতে শোক প্রকাশ করে বলেন : শিয়াদেরকে গণহত্যা ও শিয়া আলেম ও ব্যক্তিত্বদেরকে হত্যা করা, প্রকৃত অর্থে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বিনষ্ট করতে গৃহীত কুপরিকল্পনার একটি অংশ।#